মার্কেট থেকে বাদ ১২টি চীনা অ্যাপ: ভারতের ডিজিটাল নিরাপত্তায় আরও এক পদক্ষেপ

Chinese apps banned

আরো আলো প্রতিবেদন | ২৩ জুন, ২০২৫

ভারতের ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় আরও ১২টি চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করল কেন্দ্র সরকার। ২০২০ সালের পর থেকে এটি সরকারের চতুর্থ বড় পদক্ষেপ, যার লক্ষ্য হলো ভারতের সাইবার সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা এবং বিদেশি প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করা।

তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের মতে, এই অ্যাপগুলোর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য চুপিসারে চীনা সার্ভারে পাঠানো হচ্ছিল, যার ফলে দেশের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।


🔒 কোন অ্যাপ, কেন নিষিদ্ধ?

যদিও সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি, তবে জানা গেছে, এই অ্যাপগুলোর মধ্যে বেশ কিছু জনপ্রিয় ইউটিলিটি টুল, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং আঞ্চলিক ভাষাভিত্তিক অ্যাপ রয়েছে।

প্রতিটি অ্যাপে ৫-১৫ মিলিয়ন ব্যবহারকারী ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অ্যাপগুলো গোপনে ব্যবহারকারীর লোকেশন, কনট্যাক্টস, ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন অ্যাক্সেস করে তথ্য সংগ্রহ করছিল।


📜 আগেও এই পথে হেটেছে ভারত

ভারত এর আগেও একাধিকবার চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে:

  • জুন ২০২০: TikTok, WeChat, UC Browser সহ ৫৯টি অ্যাপ

  • সেপ্টেম্বর ২০২০: PUBG সহ আরও ১১৮টি অ্যাপ

  • ২০২১-২০২২: ধাপে ধাপে মোট ৩০০-এর বেশি চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ

নতুন এই তালিকা সেই ধারারই অংশ, যা স্পষ্টভাবে বার্তা দেয়—ভারতের ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস নয়।


🧾 সরকারের ব্যাখ্যা

সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে:

“এই অ্যাপগুলো অতি মাত্রায় অনুমতি নিয়ে ব্যবহারকারীর সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছিল, যা ভবিষ্যতে দেশের জন্য নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।”

CERT-In এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সাইবার অপরাধ ইউনিটের সুপারিশে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে।


👥 ব্যবহারকারী ও ডেভেলপারদের উপর প্রভাব

  • ব্যবহারকারী: ইতিমধ্যে ইনস্টল করা অ্যাপগুলি বন্ধ হয়ে যাবে। গুগল ও অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে এগুলো মুছে ফেলা হবে।

  • ভারতীয় ডেভেলপার: স্থানীয় অ্যাপ নির্মাতারা এই শূন্যস্থান পূরণে সুযোগ পেতে পারেন।

  • অ্যাপ স্টোর: গুগল ও অ্যাপলকে আরও কঠোর ভাবে অ্যাপ যাচাই করতে বলা হচ্ছে।


🔍 বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

অনেকে বলছেন, শুধু অ্যাপ নিষিদ্ধ করলেই সমস্যার সমাধান নয়। তথ্য সুরক্ষা নিয়ে একটি স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন:

“এই ধরণের অ্যাকশন তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে একটি শক্তিশালী তথ্য সুরক্ষা আইন দরকার।”


📘 সামনে কী আসছে?

বর্তমানে ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন বিল পার্লামেন্টে বিবেচনার অপেক্ষায় আছে। এই আইন পাস হলে একদিকে যেমন এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার আইনি ভিত্তি মজবুত হবে, তেমনি ডেভেলপারদের জন্যও একটি স্বচ্ছ আপিল প্রক্রিয়া তৈরি হবে।

চীন এবং ভারতের মধ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে এই পদক্ষেপকে অনেকেই দেখছেন একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে—বিশেষ করে প্রযুক্তি ও ডেটা নির্ভর যুদ্ধে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করতে।


🔚 উপসংহার

এটি শুধুমাত্র একটি অ্যাপ নিষিদ্ধ করার বিষয় নয়। এটি ভারতের তরফ থেকে একটি পরিষ্কার বার্তা—তথ্য মানেই শক্তি, আর সেই শক্তি অন্য দেশের হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না।

ভারতের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়তে হলে প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট আইন, স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সাইবার কাঠামো।