aroalo.in

প্রযুক্তির মঞ্চে ভারতের উত্থান: দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে প্রথম বিশ্ব প্রযুক্তি সম্মেলন ২০২৫

A futuristic digital summit hall in New Delhi

digital summit hall in New Delhi

২১ জুন, ২০২৫ | নয়াদিল্লি | আরো আলো নিউজ ডেস্ক

বিশ্ব প্রযুক্তির মানচিত্রে ভারত এবার একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় রচনা করতে চলেছে। বিশ্ব প্রযুক্তি সম্মেলন ২০২৫ (World Technology Summit)-এর প্রথম সংস্করণ আয়োজন করছে ভারত। অক্টোবর মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই ইভেন্টে একত্রিত হবেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ম্যানুফ্যাকচারিং, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, এবং ডিজিটাল গভর্নেন্সের বৈশ্বিক নেতা ও চিন্তানায়কেরা।

এটি শুধু একটি আন্তর্জাতিক টেক কনফারেন্স নয়, বরং ভারতের একটি শক্তিশালী বার্তা—”আমরা আর শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করি না, আমরা এখন প্রযুক্তির ভবিষ্যত গড়ে তুলি।”


কেন এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ

WTS ২০২৫ প্রযুক্তি জগতের একাধিক শাখা নিয়ে কাজ করবে—AI, গ্রীন টেক, কোয়ান্টাম গবেষণা, ওপেন সোর্স উন্নয়ন, এবং বৈশ্বিক নীতি। ১০০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন, যার মধ্যে থাকবেন রাষ্ট্রপ্রধান, বহুজাতিক কোম্পানির CEO, স্টার্টআপ উদ্যোক্তা, গবেষক, ও শিক্ষাবিদ।

এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা বলেন:

“ভারত এখন প্রযুক্তির ‘ফলোয়ার’ নয়, লিডার। এই সম্মেলন তারই প্রতিচ্ছবি।”

এই ইভেন্টে শুধুমাত্র পণ্যের প্রদর্শনী নয়, বরং AI নীতিমালা, প্রযুক্তির নৈতিকতা, ডিজিটাল সুরক্ষা ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিও আলোচনায় আসবে।


স্থান নির্বাচনে কৌশল

সম্মেলনটির স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপম, প্রগতি ময়দান। এটি পরিণত হবে এক “ফিউচারিস্টিক টেক ভিলেজে”, যেখানে থাকবে AI আর্ট, রোবটিক্স শো, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এক্সপেরিয়েন্স জোন, এবং ইন্টার‌্যাকটিভ স্টার্টআপ স্টল।

ডিজিটাল সহায়ক, ভার্চুয়াল গাইড, এবং মাল্টিলিংগুয়াল AI সহ অন্যান্য প্রযুক্তি দিয়ে সাজানো হবে পুরো অনুষ্ঠান।


ভারতের প্রযুক্তিগত উত্থান

পশ্চিমা দেশগুলোর নির্ভরযোগ্য আউটসোর্সিং গন্তব্য থেকে আজকের “টেকনোলজিক্যাল ইনোভেশন হাব” হয়ে উঠেছে ভারত। ডিজিটাল ইন্ডিয়া, মেক ইন ইন্ডিয়া ও ইন্ডিয়া AI মিশনের মতো উদ্যোগে ভারতে ২০২৪ সালে:

দেশে এখন ৯০০ মিলিয়নের বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, এবং ১ বিলিয়নেরও বেশি মোবাইল কানেকশন।

MIT-এর ইনোভেশন ফেলো ডঃ অ্যামি রিস বলেন:
“ভারতের আছে স্কেল, দক্ষতা, এবং এখন কৌশলগত নেতৃত্ব।”


কারা আসছেন? বিশ্বনেতা ও তরুণ প্রতিভা

উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন:

এছাড়াও উন্নয়নশীল দেশগুলোর তরুণ উদ্ভাবকেরা তুলে ধরবেন শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জলবায়ু বিষয়ক প্রযুক্তি সমাধান।


মূল থিম ও আলোচনার বিষয়

এই তিনদিনের শীর্ষ সম্মেলনে থাকবে:

একটি বিশেষ “স্টার্টআপ প্যাভিলিয়ন”-এ দেশি ও বিদেশি স্টার্টআপদের বিনিয়োগকারীদের সামনে পিচ করার সুযোগ থাকবে।


কূটনীতি ও সাইবার সুরক্ষা

বিশ্বরাজনীতির প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা একটি বড় ইস্যু। সাইবার হামলা প্রতিরোধে CERT-In এবং বেসরকারি সাইবার ইন্টেলিজেন্স ইউনিট মোতায়েন করা হচ্ছে।

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, জাপানের মধ্যে আলাদা বাইলেটারাল টেক টক অনুষ্ঠিত হবে—যেখানে আলোচনায় আসবে সেমিকন্ডাক্টর, 6G, ও AI নিরাপত্তা।


ভারতের জন্য সুযোগ কোথায়?

এই সম্মেলনের মাধ্যমে ভারত আশা করছে:

এর মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে ভারতের $১ ট্রিলিয়ন ডিজিটাল অর্থনীতির লক্ষ্য পূরণের পথ প্রশস্ত হবে।


উত্তরাধিকার তৈরি হচ্ছে

এই সম্মেলন এককালীন নয়—আগামী বছরগুলিতে এটি হয়তো অন্য উন্নয়নশীল দেশেও ঘুরে ফিরে অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু ২০২৫ সালের দিল্লি সংস্করণ হবে মানদণ্ড স্থাপনকারী।

রাজীব চন্দ্রশেখর বলেন:
“আমরা শুধু একটি সম্মেলন করছি না, আমরা ভবিষ্যতের প্রযুক্তি চর্চার দিশা তৈরি করছি—আর সেই ভবিষ্যতের ঠিকানা হবে ভারত।”

Exit mobile version